” You will be killed if you distribute that newspaper’

Screen Shot 2016-06-11 at 1.58.48 PM

সংবাদপত্রে প্রতিবেদন প্রকাশের জের ধরে কুষ্টিয়ায় বেপরোয়া আচরণ করছে স্থানীয় সংসদ সদস্য মাহবুব-উল-আলম হানিফের অনুসারীরা। কালের কণ্ঠ’র সাংবাদিক, সংবাদপত্র এজেন্টসহ বিভিন্নজনকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি তারা পত্রিকা লুটের ঘটনা ঘটিয়েছে। গতকাল কুষ্টিয়ায় কালের কণ্ঠ ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের কোনো কপি ঢুকতে দেয়নি তারা। এ ছাড়া সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধনের নামে কালের কণ্ঠ নিয়ে কুৎসা রটাচ্ছে হানিফের অনুসারীরা।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব নৈরাজ্যকর ঘটনা রোধে আশ্বাস দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এমপি হানিফের সশস্ত্র ক্যাডারদের মহড়া অব্যাহত রয়েছে কুষ্টিয়া শহরে। এমন পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা বিব্রত ও আতঙ্কিত; স্থানীয় সাংবাদিকরাও উৎকণ্ঠিত। জেলা আওয়ামী লীগের একজন সিনিয়র নেতা এ প্রসঙ্গে বলেন, যেদিন থেকে আওয়ামী লীগে হানিফের উত্থান ঘটেছে, সেদিন থেকেই কুষ্টিয়ায় পেশিশক্তির প্রদর্শন বেড়ে গেছে। আচরণগত কারণে তিনি আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে না পেয়ে বেছে নিয়েছেন দাগি সন্ত্রাসীদের। তাঁর কাছে শোভন আচরণ প্রত্যাশা করাটাই বোকামি। গণমাধ্যমের সংবাদে কেউ একমত না হলে প্রতিক্রিয়া এ রকম হতে পারে না। প্রতিবাদের যথাযথ প্রক্রিয়া আছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ-যুবলীগের নামে যারা ব্যানার নিয়ে রাস্তায় দাঁড়াচ্ছে, তাদের বেশির ভাগই রাজনৈতিককর্মী নয়। ব্যক্তি স্বার্থে তারা জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে পত্রিকায় আগুন দিচ্ছে, ভাঙচুর  করছে। এর দায় আওয়ামী লীগ নেবে না। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতারাও হানিফ অনুসারীদের কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তবে তাঁরা নিরাপত্তার প্রশ্নে নাম প্রকাশে রাজি হননি।

গতকাল জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আয়োজিত হানিফ অনুসারীদের সংবাদ সম্মেলনেও তাঁরা উপস্থিত হননি। কালের কণ্ঠ’র বিরুদ্ধে আয়োজিত মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে দেখা গেছে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও ভাড়াটে লোকজনকে। তারা ‘হানিফ ভাই জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিয়ে মিছিল করেছে গতকালও। কুষ্টিয়া জেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সাগর বলেন, ‘সংবাদপত্র প্রবেশে বাধাদান ও সাংবাদিকদের হুমকির ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আর রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সাংবাদিক পরিচয়ে আমরা কেউ অংশ নিচ্ছি না। এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় প্রেস ক্লাবসহ কুষ্টিয়ার সাংবাদিকরা সংশ্লিষ্ট নন।’ পত্রিকা প্রবেশে বাধা : গতকাল বৃহস্পতিবার কালের কণ্ঠ ও বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকা কুষ্টিয়া জেলায় প্রবেশে বাধা দিয়েছে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফের অনুসারীরা। তারা কুষ্টিয়া জেলার প্রবেশমুখে রাজবাড়ীর পাংশায় গতকাল ভোররাতে সংবাদপত্রবাহী গাড়ি থামিয়ে কালের কণ্ঠ’র সব কপি কেড়ে নেয়। খোকসা উপজেলাতেও সংবাদপত্রের গাড়ি তল্লাশি করে কয়েকজন সশস্ত্র যুবক। এর পরও বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকা কুষ্টিয়ায় পৌঁছলে তা বিলি না করার জন্য হকার ও এজেন্টদের হুমকি দেয় হানিফের ক্যাডাররা। শহরের বিভিন্ন স্থানে সশস্ত্র ক্যাডাররা ঘুরে ঘুরে খোঁজ নিতে থাকে কালের কণ্ঠ পত্রিকা ঢুকেছে কি না। কুষ্টিয়ার একজন সংবাদপত্র এজেন্ট এ বিষয়ে বলেন, ‘যুবলীগের কয়েকজন বলেছে, কালের কণ্ঠ পত্রিকা আনলে মেরে ফেলা হবে। যে গাড়িতে পত্রিকা বহন করা হবে, তা পুড়িয়ে দেওয়া হবে। তাই প্রাণ রক্ষার স্বার্থে আমাদের পক্ষে পত্রিকা আনা সম্ভব না। যারা হুমকি দিচ্ছে, তারা সব কিছুই করতে পারে।’ কুষ্টিয়া শহরের একজন পত্রিকা হকার বলেন, হানিফের অনুসারীরা টার্গেট করেছিল মূলত কালের কণ্ঠ পত্রিকাকে। বাংলাদেশ প্রতিদিনেও যে এ-সংক্রান্ত সংবাদ ছাপা হয়েছে, তা তারা জানত না। সকালে পত্রিকা বিলি শুরু হলে তারা টের পেয়ে বিভিন্ন স্থানে গিয়ে বাংলাদেশ প্রতিদিন কেড়ে নেয় এবং পুড়িয়ে দেয়। এরপর এজেন্টদের কাছে গিয়ে কালের কণ্ঠ ও বাংলাদেশ প্রতিদিন না আনার জন্য হুমকি দিতে থাকে।

সশস্ত্র মহড়া : মাহবুব-উল-আলম হানিফের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের কারণে দুই দিন ধরে কালের কণ্ঠ’র বিরুদ্ধে মানববন্ধনের নামে সশস্ত্র মহড়া দিচ্ছে যুবলীগ পরিচয়ের কয়েকজন। তারা কুষ্টিয়ায় কালের কণ্ঠ কার্যালয়ে ককটেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুর করেছে। গতকাল তাদের একাংশ যুবলীগের ব্যানার নিয়ে মানববন্ধন করেছে শহরের বক চত্ব্বরে। ‘হানিফ ভাই, জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিয়ে তারা মজমপুর গেট এলাকায় মিছিলও করে। জানা গেছে, কুষ্টিয়া শহর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জেড এম সম্রাট এসব তৎপরতার নেতৃত্ব দিচ্ছেন, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার তালিকায় যিনি চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তাঁর নামে চাঁদাবাজি ও হুমকির একাধিক মামলা রয়েছে। র‌্যাবের হাতে তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন কয়েক দফা। অন্যদিকে জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম বিপ্লব কালের কণ্ঠ’র বিরুদ্ধে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে সাংবাদিক ইউনিয়নের ব্যানার নিয়ে হাজির হচ্ছেন। তবে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শাবান মাহমুদ জানিয়েছেন, ‘সাংবাদিক ইউনিয়নের কোনো ইউনিট কুষ্টিয়ায় নেই। যারা ব্যানার বহন করছে তারা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য নয়।’

 

সংবাদ সম্মেলন : কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মাহবুব-উল-আলম হানিফের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করা হয় জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে। দুপুরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার ঘোষ। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ সদর উদ্দিন খান, সহসভাপতি শেখ গিয়াস উদ্দিন মিন্টু, মতিয়ার রহমান মজনুসহ হানিফ অনুসারী কিছু নেতাকর্মী এ সময় উপস্থিত ছিল। কুষ্টিয়ায় কর্মরত বেশির ভাগ গণমাধ্যমকর্মীকে ওই সংবাদ সম্মেলনে দেখা যায়নি। সাংবাদিকদের জন্য রক্ষিত বেশির ভাগ আসন দখল করে ছিল যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা। গত ৭ জুন কালের কণ্ঠে প্রকাশিত হয় “কুষ্টিয়ায় রাজত্ব ‘হানিফ লীগের’” শিরোনামের সংবাদ। হানিফ অনুসারীদের দৌরাত্ম্যসহ নানা অন্যায়ের কথা এ প্রতিবেদনে প্রকাশ পাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে কিছু ব্যক্তি কুষ্টিয়ায় কালের কণ্ঠবিরোধী নানা তৎপরতা শুরু করেছে।

News Source

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s